দেশটা আমাদের, সিদ্ধান্তটাও আমাদের
দেশটা আমাদের, সিদ্ধান্তটাও আমাদের
বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এখানে ভোট দেওয়ার অধিকার সবার আছে। এই অধিকার শুধু একটি কাগজে সিল মারা নয়, এটা আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করার সুযোগ। আমরা কেমন দেশ চাই, কেমন সরকার চাই, কেমন সংসদ চাই, সেই সিদ্ধান্তের চাবিকাঠি আমাদেষ্রয হাতেই।
অনেক বছর ধরে আমরা পুরাতন মুখ, পুরাতন রাজনীতি, পুরাতন প্রতিশ্রুতি দেখে আসছি। ফলাফল কী হয়েছে, সেটা সবাই জানে। তাই আজ মানুষ নতুনের দিকে তাকাচ্ছে। নতুন ভাবনা, নতুন নেতৃত্ব, নতুন রাজনৈতিক শক্তির দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। সমাজে একটা পরিবর্তনের ঢেউ দেখা যাচ্ছে। তরুণরা আগের মতো চুপচাপ নেই। তারা প্রশ্ন করছে, হিসাব চাইছে, বিকল্প খুঁজছে।
২০২৬ সালের নির্বাচন শুধু একটি নির্বাচন না
২০২৬ সালের নির্বাচন আরেকটা সাধারণ নির্বাচন না। এটা আগামী প্রজন্মের দিকনির্দেশনা ঠিক করার ভোট। এই ভোটে আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার প্রভাব থাকবে অন্তত পরবর্তী পাঁচ বছর। আপনার এলাকার রাস্তা, স্কুল, হাসপাতাল, চাকরির সুযোগ, নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য সব কিছুর সাথে এই ভোট জড়িত।
অনেকে ভাবে, “আমার একটা ভোটে কী আসে যায়?”
আসলে ঠিক এই চিন্তাটাই সবচেয়ে বড় ভুল। লাখ লাখ মানুষ যদি এমন ভাবতে শুরু করে, তখনই ভুল সিদ্ধান্তগুলো বড় আকার নেয়। সরকার গঠনের পেছনে ছোট ছোট ভোটের যোগফলই বড় শক্তি তৈরি করে।
ভোট নষ্ট মানে ভবিষ্যৎ নষ্ট
ধরুন, আপনার এলাকায় বিএনপির এমপি ভোটে পাস করলো। আপনি খুশি। কিন্তু সারা দেশে বেশি আসনে জামায়াতের এমপি পাস করলো। শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন হলো জামায়াতের নেতৃত্বে। তখন কী হবে?
আপনার এলাকার এমপি হয়তো বিরোধী দলে থাকবে। সরকার যেহেতু অন্য দলের, তাই আপনার এলাকার উন্নয়ন কাজে বাধা আসতে পারে। বাজেট কম আসতে পারে। প্রকল্পে গতি কমতে পারে। এমপি সাহেব চেষ্টা করলেও সরকারপক্ষের সমর্থন না থাকলে অনেক কাজ আটকে যাবে। তখন পাঁচ বছর ধরে মানুষ শুধু আফসোস করবে,
“এই ভুলটা আমরা কেন করলাম?”
এই আফসোসে রাস্তা তৈরি হবে না।ঔ
এই আফসোসে চাকরি আসবে না।
এই আফসোসে আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।
আবেগে নয়, হিসাব করে ভোট দিন
ভোট দেওয়ার সময় আবেগ নয়, বিবেক ব্যবহার করা দরকার। কে কী বলছে, কে কী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তার অতীত কী, তার দলের রাজনৈতিক অবস্থান কী, দেশ পরিচালনার ব্যাপারে তাদের বাস্তব পরিকল্পনা কী, এসব ভেবে দেখা জরুরি।
শুধু কারো কথার জোরে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল পোস্ট দেখে ভোট দিলে পরে ঠকতে হয়। ভোট মানে কোনো দলকে উপহার দেওয়া না। ভোট মানে তাদের হাতে পাঁচ বছরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া।
নতুনদের দিকে মানুষের ঝোঁক কেন
মানুষ নতুন নেতৃত্ব চায় কারণ তারা পুরোনো ব্যবস্থায় ক্লান্ত।
মানুষ চায় জবাবদিহিতা।
মানুষ চায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা।
মানুষ চায় কথা আর কাজের মধ্যে মিল।
এই কারণেই নতুনদের দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। সমাজে একটা জোয়ার তৈরি হচ্ছে। এই জোয়ার ভালো দিকেও যেতে পারে, আবার ভুল পথে গেলেও বড় ক্ষতি হতে পারে। তাই দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে আমাদের কাজ হলো, আবেগের জোয়ারে না ভেসে সঠিক দিকটা বেছে নেওয়া।
ভাই, বন্ধু, বোনদের প্রতি অনুরোধ
আপনার ভোটটা নষ্ট করবেন না।
ভোট দেওয়ার আগে একটু থামুন। ভাবুন।
আপনার এলাকার বাস্তব সমস্যা কী?
কে এই সমস্যার বাস্তব সমাধান দিতে পারবে?
কে ক্ষমতায় গেলে আপনার এলাকার উন্নয়ন সহজ হবে?
আজ আপনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, কাল তার ফল ভোগ করবে আপনার পরিবার, আপনার সন্তান, আপনার আশপাশের মানুষ। তাই ভোট দেওয়ার সময় নিজের বিবেককে সামনে রাখুন, কারো কথায় অন্ধভাবে বিশ্বাস করবেন না।
শেষ কথা
এই দেশটা আমাদের সবার।
এই রাষ্ট্রের মালিক আমরা জনগণ।
আমাদের ভোট মানেই আমাদের ভবিষ্যৎ।
ভুল সিদ্ধান্ত নিলে পাঁচ বছর আফসোস করতে হবে।
সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে পাঁচ বছর অন্তত মাথা উঁচু করে বলা যাবে,
“হ্যাঁ, আমি দায়িত্ব নিয়ে ভোট দিয়েছিলাম।”
ভাই, বন্ধু, বোন,
আপনার ভোটটা নষ্ট করবেন না।
নিজের ভবিষ্যৎ নিজেই বেছে নিন।
Md Rafiqul Islam Suman_ Copyright All rights reserved by rafiqulislam9735@gmail.com NSPp

Comments
Post a Comment